কোপা দেল রে’র সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগের আসর বসেছিল রিয়াল মাদ্রিদের হোম ভেন্যু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। নিজেদের ঘরের মাঠে পরাজয় মেনে নেওয়াটা যতটা না কষ্টের তারচেয়ে বেশি যেন লজ্জার। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতের রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ফাইনাল নির্ধারণী ওই ম্যাচে ডেভিড আলাবার ভুলের প্রায়শ্চিত্তই যেন করতে হচ্ছিল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।
কিন্তু, দলটা যখন কামব্যাকের গল্প লিখতেই সিদ্ধহস্ত তখন ফলাফলটা অজানা নয়। অ্যান্টনিও রুডিগারের ঝলকে শেষ হাসি হাসে রিয়াল মাদ্রিদ। কোপা দেল রে'র ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ডিফেন্সের দুর্বলতা।
খেলার ১১৫ মিনিটে শেষবার সফরকারীদের জালে বল জড়াল, গড়ে দিল ব্যবধান। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হওয়া সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হয়ে একপ্রকার কূল রক্ষা হলো স্পেনের সবচেয়ে সফল দলটির। প্রথম লেগের ১-০ গোলে জয়ের কারণেই শেষ হাসি হাসল এমবাপ্পে-রদ্রিগোরা।
রিয়াল মাদ্রিদের চার গোলদাতা হলেন এন্ড্রিক, জুড বেলিংহ্যাম, অঁহেলিয়া চুয়ামেনি ও অ্যান্টোনিও রুডিগার। আর সোসিয়েদাদের হয়ে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, একবার জালে বল পাঠান আন্দের বারেনেচিয়া। যদিও আত্মঘাতী গোলের হিসাবে ১টি গোলে ডেভিড আলাবার অবদান রয়েছে। অন্যটিতে সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
পুরো মাচে ভিনিসিউস-এন্ড্রিকরা অসংখ্য সুযোগ না হারালে স্কোরলাইন আরো বড় হতে পারত, ম্যাচের চিত্রনাট্যও হয়তো অন্যরকম হতো। কিংবা ডিফেন্সের নড়বড়ে অবস্থা না থাকলে সহজেই জয় ঘরে তুলতে পারতো রিয়াল মাদ্রিদ।
খেলার ১৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে স্তব্ধ করে দেয় সফরকারীরা। বারেনেচিয়ার গোলে লেগের সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ। আজকের ম্যাচে খুব একটা নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি মাদ্রিদের গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিন। ডিফেন্সের দুর্বলতায় যদিও তাকে বেশ চাপ সামলাতে হয়েছে।
খেলায় দলের গতি ফেরান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক। ঝিমিয়ে পড়া দলকে ৩০তম মিনিটে গোলের স্বাদ উপহার দেন তিনি। দারুণ চিপ শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।
খেলার ৭২ মিনিটে সবচেয়ে বড় ভুলটাই যেন করে বসেন রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মারিনের পাঠানো বল ঠেকাতে যান ডেভিড আলাবা। তার পায়ে লেগে লুনিনকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় জালে।
৮০তম মিনিটেও আলাবাকে ঘিরে একই চিত্র দেখে বার্নাব্যু। মিকেল ওইয়ারসাবালের শট লক্ষ্যেই ছিল, সামনে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল দূরের পোস্ট ছুঁয়ে জালে জড়ায়। সেখানেও রয়েছে আলাবার প্রত্যক্ষ অবদান। আলাবার ব্যর্থতায় ফাইনালের সুবাসও পেতে শুরু করে সোসিয়েদাদ। শেষ দিকে অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। চার মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করেন বেলিংহ্যাম ও চুয়ামেনি।
গোল পেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কাছ থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন ওইয়ারসাবাল।
শেষ পর্যন্ত ১১৫ মিনিটে গিয়ে দুই বদলি খেলোয়াড়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ। আর্দা গুলেরের কর্নারে হেডে রুডিগার গোল দিয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচান মাদ্রিদিস্তাদের।
ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ লড়বে বার্সেলোনা অথবা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। এই দুই দলের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগ ৪-৪ গোলে ড্র হয়েছিল, ফিরতি লেগে বুধবার মাঠে নামবে তারা।
আমারবাঙলা/জিজি