নব্বইয়ের দশকে হলিউডের সবচেয়ে আবেদনময়ী তারকাদের একজন ছিলেন ডেমি মুর। সেই কবে করেছিলেন ‘স্ট্রিপটিজ’, এত বছর পরও সেই সিনেমার পোস্টারে তার পোজ নিয়ে আলোচনা হয়। ‘গোস্ট’, ‘ইনডিসেন্ট প্রপোজাল’, ‘ডিসক্লোজার’ও করেছেন ডেমি। ১৯৯৫ সালে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী।
তবে অজানা কারণে সাড়ে চার দশকের ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য কোনো পুরস্কারই জেতেননি ডেমি। চলতি বছর গোল্ডেন গ্লোবে সেই আক্ষেপ দূর হয়েছে, এবার অস্কারের অপেক্ষায় আছেন ডেমি।
‘আমি আশাই করিনি এটি বড় একটি ধাক্কা। ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছি, সেভাবে পুরস্কার পাইনি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা,’ গোল্ডেন গ্লোবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জয়ের পর এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ডেমি মুর। এরপর তো অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়নও পেয়েছেন ৬২ বছর বয়সী অভিনেত্রী।
ডেমির এত সব অর্জন ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ সিনেমার জন্য। চলতি সপ্তাহেও এ ছবির জন্য স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডসে প্রধান চরিত্রে সেরা নারী অভিনয়শিল্পী হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ডেমি মুর বলেন, ‘অভিনয় আমাকে জীবনের নতুন মানে খুঁজে নিতে সাহায্য করেছে।’
কান উৎসবে গত বছর প্রদর্শিত হওয়ার পরই আলোচনায় আসে দ্য সাবস্ট্যান্স।
কোরেলি ফারজার এই বডি হরর সিনেমার উচ্চকণ্ঠ প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম মুবিতে মুক্তির পর থেকে সে প্রশংসায় যোগ দিয়েছেন সাধারণ দর্শকও। কিন্তু কী এমন আছে এই সিনেমায়? বিনোদন–দুনিয়ার খোঁজ-খবর রাখলে গল্পটা আপনার চেনা মনে হতে পারে। প্রখ্যাত তারকা এলিজাবেথ স্পার্কলসের গল্প। টিভির এই ফিটনেস শো তারকার ক্যারিয়ার পড়তির দিকে।
নিজের ৫০তম জন্মদিনের দিনই তিনি জানতে পারেন যে তার বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। যৌবন ধরে রাখতে মরিয়া এলিজাবেথ শরীরে প্রয়োগ করেন একটা ব্ল্যাক মার্কেট ড্রাগ। কিন্তু ঘটনা ঠিক তার মনমতো হয় না। ব্ল্যাক মার্কেট ড্রাগ নিয়ে উন্নততর সংস্করণে হাজির হতে চেয়েছিলেন এলিজাবেথ। কিন্তু স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি কিছু দুঃস্বপ্নও তার জীবনে যোগ করে এই ড্রাগ।
‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ কিন্তু সবার জন্য নয়। নগ্নতা, সহিংসতা ও বীভৎসতার কারণে ছবিটি কেবলই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। অনেকের ছবিটি দেখতে গা গুলিয়েও উঠতে পারে। পর্দায় যারা বডি হরর ঘরানার সিনেমা দেখতে অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের দ্য সাবস্ট্যান্স এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
নিরীক্ষাধর্মী নির্মাণ, দুর্দান্ত সম্পাদনার সঙ্গে ডেমি মুর, মার্গারেট কোয়ালি, ডেনিস কায়েডের অভিনয়ের কারণে মন খুলে দ্য সাবস্ট্যান্স’র তারিফ করেছেন সমালোচকেরা। অন্যান্য বডি হরর সিনেমার মতো এতেও প্রস্থেটিক মেকআপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ ছবিতে প্রস্থেটিকসের কাজ দেখলে চমকে যাবেন। অতীতের সব কাজ মনে রেখেও এটিকে ডেমি মুরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা বললেও ভুল হবে না।
মন দিয়ে দেখলে এ সিনেমায় পপ কালচারের পরিচিত অনেক কিছুরই প্রভাব দেখতে পারবেন। মূলত এ সিনেমায় প্রিয় অনেক নির্মাতাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন কোরেলি ফারজা। প্রথম ছবি রিভেঞ্জ দিয়েই সমালোচকদের প্রিয়পাত্রী হয়ে গেছেন তরুণ এই ফরাসি নির্মাতা, দ্য সাবস্ট্যান্স দিয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। রিভেঞ্জ নির্মিত হয়েছিল পুরোপুরি ফরাসি ভাষায়। দ্য সাবস্ট্যান্স যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত। ছবির ভাষাও ইংরেজি, সে জন্যই হয়তো এটি আরো বেশিসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে।
সিনেমাটিতে বিভিন্ন প্রেরণা নিয়ে কথা হচ্ছিল। এতে আপনি ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড’র অনুপ্রেরণা যেমন পাবেন, তেমনি পাবেন বডি হরর সিনেমার ওস্তাদ নির্মাতা ডেভিড ক্রোনেনবার্গের কাজের প্রভাব। ছবিতে ডেনিস কায়েড অভিনীত চরিত্রটির নাম ‘হার্ভে’, এটি কুখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েইনস্টাইনের নাম থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা শক্ত নয়।
‘বয়স’ নিয়ে তারকাদের চিন্তার শেষ নেই। বটক্স, ফিলার বা অস্ত্রোপচারের কথাও প্রায়ই শোনা যায়। দ্য সাবস্ট্যান্স দেখতে দেখতে তারকাদের নিয়ে বহুল চর্চিত শব্দগুলোই বারবার মনে পড়বে।
অস্কারে পাঁচ মনোনয়ন পেয়েছে দ্য সাবস্ট্যান্স। তবে সমালোচকদের ধারণা, সেরা ছবি এটি হবে না কিন্তু সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ডেমি মুর পুরস্কার জিতবেন। এমিলিয়া পেরেজ অভিনেত্রী কার্লা সোফিয়া গাসকোন বিতর্কের কারণে পিছিয়ে পড়ায় ডেমির সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়েছে। তথ্যসূত্র: এএফপি, ভ্যারাইটি, আইএমডিবি।
আমারবাঙলা/এমআরইউ