কয়েকদিন অন্তর কোনো না কোনো কারণে সংবাদের শিরোনাম হন ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। আর তা অবশ্যই তার ক্যারিয়ার নিয়ে নয়, বিতর্কিত কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে। ফলে তার ব্যক্তিগত জীবনও থাকে সমালোচনার মধ্যে।
বলে রাখা ভালো, নানান বিস্ফোরক কর্মকাণ্ড ও অভিযোগ নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়া পরীমণির জন্য একেবারেই নতুন কিছু না। এর আগে মাদককাণ্ডে জড়িয়ে রিমান্ড থেকে শুরু করে থানা-হাজতেও কাটিয়েছেন নায়িকা। এর পর এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও কোর্ট-কাচারি বেড়াতে হয়েছে তাকে। যদিও পরে জামিন পেয়েছেন তিনি।
এবার এক গুরুতর অভিযোগে জর্জরিত নায়িকা। বাসার গৃহকর্মীকে নাকি বেধড়ক মারধর করেন তিনি। ভুক্তভোগী সেই গৃহকর্মী থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। আর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হলে তা একতরফা বলে দাবি করেন পরীমণি।
জানিয়ে রাখা ভালো, রাজধানীর ভাটারা থানায় পরীমণির বিরুদ্ধে ওই গৃহকর্মী অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সেখানকার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। এর পরই পরীমণির সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিবারই বিচ্ছিন্ন করে দেন নায়িকা।
কিন্তু, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় গণমাধ্যমের ওপর রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন পরীমণি। দাবি করেন, সবটাই একতরফা; এবং তিনি একপাক্ষিক বিচারের শিকার।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মধ্যরাতে ফেসবুকে লাইভে এসে পরীমণি বলেন, ‘আমি এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য একদম প্রস্তত ছিলাম না।’ এর পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে কড়া গলায় তিনি বলেন, ‘এতো মিডিয়া ট্রায়াল (একপাক্ষিক সংবাদ) বন্ধ করে দেন।’
এর পর খানিকটা মুচকি হেসে হুমকির সুরে বলেন, ‘জনগণ কিন্তু আস্ত একটি মিডিয়া, যদি সে সঠিক হয়, সত্যি হয়। এসব স্ট্যাম্পমারা মিডিয়ার দরকার হয় না। এগুলো করবেন না, এগুলো সুন্দর দেখায় না। আপনারা হবেন সাপোর্টিভ, এগুলো কি করেন আপনারা!’
পরীমণি বলেন, ‘একতরফা করবেন না, করলে সবদিক থেকেই করবেন। প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করেন, আমার বাসার নিচে আসতে হবে না। আমি নিজেই আপনাদের কাছে যাব। আমি আপনাদের কয়বার নক দিয়েছি, ওই মেয়ে যে আপনাদের নক দিয়েছে? আপনাদের নাম্বার ও কীভাবে পেলো? নাকি আপনাদেরই গরজ। নাকি হাতে এস লেখা বলে আপনাদের বলদ ফলদ বলেছিলাম বলে আপনাদের গায়ে লাগলো? তো বলদের প্রমাণ দিয়ে দিচ্ছেন?’
উল্লেখ্য, এর পর বেশ খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বেশ কিছু অকথ্য ভাষায় কথায় বলেন পরীমণি; যা প্রকাশের অযোগ্য। পরীমণি বলেন, ‘আপনারা আইন, সংসার, জীবন-সবকিছুর ঊর্ধ্বে যেতে চান।’ এর পর হুমকির সুরে পরীমণি বলেন, ‘হিসাব কিন্তু একদিন আপনাদের দিতেই হবে। মিলিয়ে নিয়েন।’
আমারবাঙলা/জিজি