রাজধানীর বংশালের আল-জামিয়া ফোরকানিয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় রাতের খাবার খেয়ে শিক্ষকসহ ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে তাদের অসুস্থ অবস্থায় ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে আনা হয়। পরে তাদের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
চিকিৎসাধীন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, বেলাল (৩৬), সিয়াম (২৫), সাকিব (১৮), রাকিব (২০), আব্দুল্লাহ (২৫), আব্দুল নায়েক(২১), নোমান (১৮), মফিকন (৩০), সাফায়েত (১২), আব্দুল্লাহ (২০), নোমান (১৫), শহীদ (৫৫), হীরা (১২), জাফর (১৬), জাহের (১৪), সাজ্জাদ (১২), জুবায়ের (৮), রাইস (৭), মাহিম (৭), তাওহীদ (১৪), মাহাদী (১৫), হাবিল (২৫), বেলাল (৩২), ইয়াসিন (১৩), সিয়াম (১৫), আবির (১২), মেহেদী (৮), সালমান (৮), মাসুম (১৫), ওয়াসিব ২৬), আবু সালেহ (৯), নাজির (১২), মুজাহার (৫০), মোজাম্মেল (২০), নাঈমুল (১৪), ফাহিম (২০), সেলিম (২২), নূর মোহাম্মদ (১৯), জাওয়াদ (২২), হারুন অর রশিদ(৩৬), তানজিম (১১), আব্দুল্লাহ (১৪), তালহা (১৪), ওয়াসিম (১৩), মোবারক (১৫), কাহিদ (১৮), মাসুম (৩৫), আমির হামজা (১০), সজীব (১৩), সাদায়েত (১৬) ও বায়জিদ (২০)।
মাদ্রাসার শিক্ষক এহসানুর রহমান বলেন, রাতের খাবার বাইরে থেকে এক ব্যক্তি মাদ্রাসায় দিয়েছিলেন। সেই খাবার খেয়ে আমাদের শিক্ষকসহ ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জরুরি বিভাগ থেকে তাদের মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠান। বর্তমানে মেডিসিন বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, মাদ্রাসাটিতে ১৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের অধিকাংশই শিশু। শুক্রবার দুপুরে মাদ্রাসায় মুরগি দিয়ে বিরিয়ানি রান্না হয়। দুপুরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্টাফরা সেই বিরিয়ানি খান। একই সময়ে কোনো ব্যক্তি বা কোনো সংগঠন থেকে রান্না করা গরুর বিরিয়ানি দিয়ে যায়। যেহেতু তখন তারা দুপুরের খাবার খেয়ে ফেলেছেন, সে জন্য গরুর বিরিয়ানি রেখে দেন রাতের জন্য। রাতে সবাই একত্রে সেই গরুর বিরিয়ানি খান। এরপর শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই একেক জন অসুস্থতাবোধ করতে থাকেন। সারাদিন অসুস্থবোধ করার পর সন্ধ্যার পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। গরুর মাংসের বিরিয়ানি কারা রান্না করে দিয়ে গেছেন সেটি তিনি জানেন না।
বাবুর্চি সৈয়দ আবুল হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরের মুরগির বিরিয়ানি তিনি নিজে রান্না করেছিলেন। তবে দুপুরে গরুর যে বিরিয়ানিটি দিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটি কারা রান্না করেছে এবং কারা দিয়ে গেছে সেটি তিনিও জানেন না। তার ধারণা, রাতে সেই গরুর বিরিয়ানি খাওয়ার কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বিষয়টি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
আমারবাঙলা/এমআরইউ