বিগত ১৫ বছরে চা রপ্তানী ড্রপ করেছিল রিলেশনশীপের কারণেই মন্তব্য করে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো: সরওয়ার হোসেন এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি বলেছেন, ‘চা রপ্তানী বাড়ানোর ক্ষেত্রে রিলেশনশীপটা মেটার করে। এই রিলেশনশীপ অনেক সময় পলিটিকেল লিডারশীপের উপর ডিফেন্ড করে। যে সকল দেশ আমাদের কাছ থেকে ইমপোর্ট করতো, তাদের কোনো কারনে হয়তো বুঝাপড়াতে কোন একটা গ্যাপ ছিল, সেটা কিন্তু ডিপলোম্যাটিক কারনেও হতে পারে। প্রতিটি মানুষ কেনাকাটার আগে সিদ্ধান্ত নেয় কোথা থেকে ক্রয় করবে। এটাও একটা রিলেশনশীপের বিষয়। কান্ট্রি টু কান্ট্রির রিলেশনশীপ, ডিপলোম্যাটিক রিলেশনশীপের বিষয়ে চলে আসে। এর বাহিরে চায়ের কম্পিটিশন বেড়েছে। এখন অনেকগুলো দেশেই সস্তায় চা উৎপাদন করছে। যেখানে আমরা প্রাইসের জন্য ট্রাগল করছি। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের রপ্তানী অনেক কমেছিল এটা সত্য, কিন্তু ২০২৪ সালে সেটা কিছুটা বেড়েছে। এই বাড়াতে আমরা খুব বেশি খুশি না, আমাদের অনেক সুযোগ আছে, তাই রপ্তানী আরো বাড়াতে হবে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ চা গবেষনা কেন্দ্র (বিটিআরআই) এ ৫৯তম বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের বার্ষিক কোর্স প্রশিক্ষনের সমাপনী দিনে প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারী থেকে বিভিন্ন বাগানের ২০ জন সহকারী ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষনার্থীদের নিয়ে গুনগত মানের ভেরাইটি চা উৎপাদন এর উপর ৭দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়।
টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, ‘চা রপ্তানীর জন্য সবার আগে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে আগে যে দেশগুলোতে রপ্তানী করা হতো সেসব দেশের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বিগত কয়েক বছরে কোন কারনে আমাদের যে যোগাযোগ বা লিংকটা তাদের সাথে দুর্বল হওয়ায় এই মার্কেটটা অন্যান্য দেশ দখল করে নিয়েছে, সেগুলোকে উদ্ধার করতে হবে। আমাদের যে মিশনগুলো রয়েছে, বিশেষ করে এম্বেসিগুলোকে ওই দেশের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করতে হবে, তারা যাতে আমাদের চা ইম্পোর্ট করে সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে তাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে টি সেক্টর থেকে ওই দেশে প্রতিনিধি যাবে এবং আমাদের চাগুলো প্রদর্শনী করবে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে, যাতে তারা ইনকরেজ হয়। অনেকেই হয়ত জানেও না যে বাংলাদেশে কোয়ালিটি চা উৎপাদন হয়। এছাড়া যারা চা ইমপোর্ট করেন তারা যদি চা ইমপোর্ট কমিয়ে এক্সপোর্ট করেন তাহলে দেশ উপকৃত হবে। বিশেষ করে আমাদের উৎপাদনকারী যারা আছেন, যারা বছর শেষে চা বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খান, তারা কিন্তু উপকৃত হবে। আমি ইমপোর্টটাকে ডিসকারেজ করার পক্ষে সব সময়।’
তিনি বলেন, ‘কয়েকটা গ্রুপের উপর এই চা সেক্টর নির্ভর করছে। আমি সিন্ডিকেট বলবো না, কিন্তু কয়েকটা গ্রুপের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে চায়ের মার্কেট প্রাইসটা কি রকম হবে। চায়ের সর্বনি¤œ কেজি ১৬০ টাকার নিচে নামালে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা নির্ধারণ করার কারনে অকশনে এর নিচে নামতে পারছে না। যদি এটাকে আমরা কমিয়ে দেই, তাহলে অকশনে মুড়ির দামে চা বিক্রি হওয়া শুরু হবে। এতে বাগান মালিকরা আরো ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এমনিতেই বেশির ভাই বাগান এখন লসে আছে। কারন কস্ট অব প্রডাকশন ২২০ টাকার উপরে। সেখানে আমাদের এর নিচে সেল করলে তারা লসেই থাকবে। এজন্য লো প্রাইস আর কমানো যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘নি¤œমানের চা ভারত থেকে চোরাই পথে আসার ব্যাপারে চা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা ওপার থেকে সেগুলো পাঠাচ্ছে দোষ শুধু তাদের না, আমাদের নিজেরাও চরিত্রহীন। ওপার থেকে নিয়ে আসতেছে-তো আমাদের লোক’ই, আমাদের লোক যদি লোভে পড়ে রাতের অন্ধকারে নিজের দেশের ক্ষতি করে নিয়ে আসে সেটাও আমাদের ঠিক করতে হবে। সবকিছু আইনকানুন দিয়ে হয় না, আমাদের নিজেদের চরিত্র ঠিক করতে হবে। নিজেদের আত্মসম্মানবোধ, দেশপ্রেম আছে, সেগুলো ঘাটতি থাকলে বর্ডার যতই সীল মারা হয় না কেন, কোন না কোন ভাবে সেগুলো আসবেই। যারাই এর সাথে সম্পৃক্ত তাদের দেশপ্রেম জাগ্রত হতে হবে।’
ন্যাশনাল টি কোম্পানীর শ্রমিক অসন্তোষের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে এই কোম্পানীতে অনেক অনিয়ম হয়েছে, সেই অনিয়মের জন্য অনেক ব্যাংক লোন হয়েছে, পরবর্তিতে সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সরকার চেষ্টা করছে, নতুন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে, আমি আশাবাদী নতুন যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা সততার সাথে কাজ করলে অবশ্যই এই কোম্পানী ভালো করবে। তাদের প্রতিটি বাগান ভালো আছে। যারা অনিয়মের সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের ব্যাপারে লিগেল প্রসিকিউশনে বা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে অবশ্য আছে বলে আমি বিশ^াস করি। তবে আমি নির্ধারিত করে বলতে পারবো না কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কারন এটা একটা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী।’
যে ২০ জন এখানে অংশগ্রহন করেছে, তারা সবাই সহকারী ব্যবস্থাপক লেভেলের। তারা গত কয়েক দিন এখানে যে টেনিং করেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত, এতে তারা প্র্যাক্টিক্যাল অনেক কিছু শিখতে পেড়েছে। যা শিখেছে সেগুলো যদি নিজ নিজ বাগানে গিয়ে কলা কৌশল করতে পারে তাহলে অবশ্যই পজেটিভ রেজাল্ট আসবে। এবং গুনগত মানের চা প্রডাক্ট করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ চা বোর্ড এর সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) ড. পিযুষ দত্ত, বাংলাদেশ চা গবেষণা কন্দ্রের পরিচালক মোঃ ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ চা প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. রফিকুল হকসহ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীগন।
আমার বাঙলা/ এসএ