সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে ঘিরে সংঘর্ষে চট্টগ্রামে নিহত হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।
এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ জনকে।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) গভীর রাতে মামলাটি করা হয়।
এ ছাড়া আদালতে আইনজীবী ও পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিহত আলিফের ভাই আরেকটি মামলা করেছেন। ১১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হওয়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে নামঞ্জুর হয়। এরপর কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে বাধা দেন তার অনুসারীরা।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে ভাঙচুরের প্রতিবাদে আইনজীবীরা মিছিল বের করলে ধাওয়া দিয়ে সাইফুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইনজীবীকে খুনের ঘটনায় ২৫ থেকে ৩০ জন অংশ নেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান তিনজন।
তার নিথর দেহ পড়ে থাকলেও লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটাতে থাকেন অন্যরা।
বুধবার চট্টগ্রাম শহরে দুই দফা এবং লোহাগাড়া উপজেলায় দুই দফা জানাজা শেষে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে আইনজীবী সাইফুলকে দাফন করা হয়। সাইফুল ২০১৮ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরে তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবেও নিবন্ধন পান।
আমারবাঙলা/এমআরইউ