ছবি-সংগৃহীত
লাইফস্টাইল

জীবনে ৫ পরিবর্তনে ভালো থাকবে হার্ট

লাইফস্টাইল: আমরা কয়জন রাখি হৃদয়ের খোঁজ? কিন্তু হৃদপিণ্ডে সমস্যা হলেই যুবক থেকে শুরু করে বয়স্করাও কুপোকাত হয়ে যান। ভয়ংকর সব প্রাণঘাতি রোগ এ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিতেই বাসা বাঁধে, আবার সুযোগ পেলে বিকল করে দেয়। তাই হৃদপিণ্ডের যত্ন নিয়ে হওয়া উচিত খুব সচেতন।

গবেষণা বলছে, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর এবং স্ট্রোকে প্রতি বছর অন্য যেকোনো রোগের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এমনকি করোনার সময়েও হৃদস্বাস্থ্যজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কম ছিল না।

এ অবস্থায় চিরচেনা হৃদরোগগুলোকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। সুন্দর পৃথিবীতে আরও কিছুদিন সুস্থ্যভাবে বাঁচতে চাইলে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।

অনেকেই জানেন না কিভাবে তাদের হৃদস্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। তারা ভাবেন যে এর জন্য লাগবে কঠোর সাধনা, খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে প্রিয় সব খাবার বা বাকিটা জীবন নিরামিষ খেয়েই বাঁচতে হবে! কিন্তু এ ধারণা একেবারেই অমূলক। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারলে হৃদপিণ্ডের আয়ু বেড়ে যাবে। এ পরিবর্তিন হুট করে নয়, বরং প্রতিদিন একটু একটু করে করতে হবে।

নিশ্চিত করতে হবে যাতে পরিবর্তিত অভ্যাসগুলো আপনার প্রতিদিনের জীবনধারায় পাকাপাকিভাবে থেকে যায়।

হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জীবনধারায় কী পরিবর্তন আনতে হবে জেনে নেয়া যাক-

১) শখ হিসেবে বাগান করা:

না ভেবে থাকলে, এবার ভাবা শুরু করুন। বাড়িতে যেখানে আলো-বাতাস আছে বা ছাদে জায়গা পেলেই গাছ লাগান। তবে হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে ফুলের গাছ লাগানোর চাইতে সবজি- ফল পাওয়া যায় এমন গাছ দিয়ে বাগান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে করে ব্যক্তি নিজের জন্য যেমন প্রাকৃতিক খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারবেন তেমনি খাটুনির কারণে শরীরচর্চাটাও হয়ে যাবে।

প্রচুর পরিমাণে তাজা, জৈব খাবার খেলে তা থেকে যে পুষ্টি পাওয়া যায় তা হৃদস্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আবার, ঘন ঘন দুশ্চিন্তা করাও হৃদরগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আর অবসরে বাগান করলে আপনার উদ্বেগও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেননা, উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার এক থেরাপিউটিক মাধ্যম হলো গার্ডেনিং।

২) যাত্রাপথে আরামদায়ক বাহন ব্যবহার:

ট্রাফিকে বসে থাকলে কি আপনার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়? উদ্বেগের কারণে এমনটা ঘটে। তাই বিশেষজ্ঞরা মত দেন যাত্রাপথে আরামদায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। সম্ভব হলে এমন যানবাহন ব্যবহার করুন যেখানে যথেষ্ঠ বসার জায়গা আছে। মনকে শান্ত করতে গান শুনতে পারেন যাত্রাপথে। দূরত্ব বেশি না হলে সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।

৩) ওমেগা-৬ নয়, ওমেগা-৩কে আপন করে নিন:

হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ উভয়ই প্রয়োজনীয়। ওমেগা-৩ ট্রাইগ্লিসারাইডের মতো রক্তনালিতে থাকা ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। তাই ওমেগা-৩কে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সমস্যা হয় যখন আমরা ওমেগা-৩ সম্পন্ন খাদ্যের চেয়ে ওমেগা-৬ সম্পন্ন খাদ্য বেশি গ্রহণ করে ফেলি।

আমাদের খাদ্য তালিকায় ওমেগা-৬ ও ওমেগা ৩- এর উপস্থিতির আদর্শ মান হলো ৪:১। কিন্তু দেখা যায় এ অনুপাত বেড়ে দাঁড়ায় ১০:১ কিংবা ৩০:১। এ অবস্থায় যা করতে পারেন তা হলো, খাবার তৈরি করার সময় ওমেগা-৬ যুক্ত খাদ্যকে ওমেগা-৩ যুক্ত খাদ্য দ্বারা প্রতিস্থাপন করুন। যেমন- ভেজিটেবল ওয়েলের বদলে রান্নার সময় সরিষা বা জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন।

৪) রুটিন চেক-আপে প্রযুক্তির সহায়তা নিন:

বিএমআই, রক্তচাপ, রক্তের মোট কোলেস্টেরল ও গ্লুকজ নির্ণয় করা একজন হৃদঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির সহায়তায় বাসায় বসেই এখন এগুলো নিরীক্ষণ করা যায়। ফিটনেস ওয়াচও কিনে নিতে পারেন।

এছাড়াও গুগলে প্লে-স্টোরে গেলে অনেক অ্যাপ পাবেন, যা আপনাকে আপনার ফিটনেস ওয়াচের সঙ্গে সমন্বয় করে রুটিন পরিকল্পনা করে দেবে।

৫) ঘুমানোর আগে হালকা ব্যায়াম:

ঘুমানোর আগে অবশই ৫-১০ মিনিট ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করে নিতে হবে। স্ট্রেচিং ও ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা যেতে পারে।

এছাড়াও কোনো ইয়োগা প্রশিক্ষকের কাছ থেকে শিখে নিতে পারেন কার্যকারী কিছু আসন, যা আপনার স্নায়ুকে শান্ত রাখবে। দুশ্চিন্তা নিয়ে কখনোই ঘুমাতে যাওয়া উচিত না। সূত্র: মেডশ্যাডো ফাউন্ডেশন।

এবি/ এইচএন

Copyright © Amarbangla
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

স্বাস্থ্যখাত হবে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত — স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সর...

আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের বাসিন্দাদের শ্রদ্ধা নিবেদন

আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন, জোন এ থেকে জোনাল সমন্বয় কমিটির ব্যানারে কম...

সংসদে বসা মাত্রই গণভোটের হ্যাঁ কার্যকর হবে- পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানী

পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্প...

​চকরিয়ায় ড্রাম ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ: বাবা নিহত, ছেলে গুরুতর আহত

​কক্সবাজারের চকরিয়ায় ড্রাম ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নুরু...

রাঙ্গাবালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথায...

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের লজ্জিত হওয়া উচিত : ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় ঘোষণা করেছেন...

শহীদ মিনারে জাতীয় পার্টির ব্যানার দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জান...

লেবুর দাম কমলেও সবজিতে স্বস্তি নেই

পবিত্র মাহে রমজান শুরুর অন্তত ৪-৫ দিন আগে থেকে প্রতি হালি শতক ছাড়িয়ে যাওয়া লে...

স্বাস্থ্যখাত হবে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত — স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সর...

রাঙ্গাবালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথায...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
খেলা